রোজকার রান্নায় তেলের ব্যবহার কমিয়ে ডিমের স্বাদ নিতে চাইলে খুব একটা কাঠখড় পোড়াতে হয় না। হাতের কাছে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়ে দারুণ সব পদ বানিয়ে ফেলা যায় খুব সহজেই। ডিমের নিজস্ব স্বাদ আর টেক্সচার বজায় রেখে কীভাবে তেল ছাড়াই জিভে জল আনা খাবার তৈরি করা যায়, তার একটি খসড়া রইল এখানে।
ডিম ভাপা তেল ছাড়াই ডিম রান্নার সেরা উপায় হলো ভাপে সেদ্ধ করা। একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে তাতে কুচনো পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচালঙ্কা, নুন ও হালকা মশলা মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি একটি স্টিলের টিফিন কৌটোয় ভরে ফুটন্ত জলের কড়াইতে বসিয়ে দিন। মিনিট দশ-বারো বাষ্পে রান্না করলেই তৈরি নরম তুলতুলে এই পদ। সকাল বা বিকেলের জলখাবারের জন্য এটি একদম যুতসই।
ওয়াটার পোচ তেল ছাড়া পোচ বানানোর জন্য কড়াইতে জল ফুটিয়ে নিন। জল ফুটতে শুরু করলে আঁচ কমিয়ে ডিমটা সাবধানে ভেঙে জলের ওপর ছেড়ে দিন। কয়েক মিনিটেই পোচ তৈরি হয়ে যাবে। নামানোর পর ওপর থেকে সামান্য নুন আর গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেই স্বাদ খোলে দারুণ। সাধারণ পোচের তুলনায় এটি বেশ হালকা ও আলাদা স্বাদের হয়।
এগ ড্রপ স্যুপ হালকা কিছু খেতে চাইলে এগ ড্রপ স্যুপের জুড়ি নেই। সবজি বা ওটসের স্যুপ বানিয়ে তার মধ্যে ফেটানো ডিম অল্প অল্প করে ঢেলে দিন। ঢালার সময় চামচ দিয়ে নাড়তে থাকুন। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে গরম গরম সুস্বাদু স্যুপ। রাতের খাবারের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়।
সেদ্ধ ডিমের চাট সেদ্ধ ডিমের একঘেয়েমি কাটাতে এটিকে একটু অন্যভাবে পরিবেশন করা যায়। ডিম সেদ্ধ করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। এবার তাতে পেঁয়াজ কুচি, লেবুর রস, জিরেগুঁড়ো, চাট মশলা ও নুন দিয়ে ভালো করে মেখে নিন। কোনো রকম তেল ছাড়াই ঝাল-টক স্বাদের এই চাট আট থেকে আশি সবারই প্রিয়।
ডিম ভুজিয়া যারা কুসুম ছাড়া খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। নন-স্টিক প্যানে সামান্য জল দিয়ে পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ও টমেটো হালকা করে নেড়ে নিন। তারপর ডিমের সাদা অংশটুকু ঢেলে নেড়েচেড়ে রান্না করুন। যতক্ষণ না সাদা অংশগুলো দলা পাকিয়ে আসছে, ততক্ষণ নাড়তে থাকুন। এই পদ্ধতিতে বানানো ভুজিয়া যেমন তৈরি করা সহজ, তেমনি খেতেও বেশ মুখরোচক।
রান্নার এই ভিন্নমুখী চর্চা যখন ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হচ্ছে, তখন স্কুলের মিড-ডে মিলের মেনু নিয়ে কিন্তু অন্য খবর শোনা যাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পে ডিমের উপস্থিতি আগের চেয়ে কমেছে। পিএম পোষণ প্রকল্পের আওতায় এক দশক আগে যেখানে ৪৪ শতাংশ রাজ্যে মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়া হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। শুধু ডিম নয়, ফলের সরবরাহও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এই পরিবর্তন মেনুর চরিত্র বদলে দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল চালানো নিয়ে মেনু ও পুষ্টির জোগান নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। রান্নায় ডিমের কদর যেমন বাড়ছে, তেমনি স্কুলের মেনু থেকে তার সরে যাওয়া—পুষ্টির এই দুই ভিন্নমুখী স্রোত এখন খাবার টেবিলে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।