আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটা হওয়ার কথা ছিল। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে ভারত-পাকিস্তানের সাথে রয়েছে আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস আর নামিবিয়া। পাকিস্তান সরকার এবং পিসিবি মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, গ্রুপের বাকি দলগুলোর সাথে খেলা চালিয়ে গেলেও আপাতত ভারতের মুখোমুখি তারা হচ্ছে না। তবে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি না হলেও, টুর্নামেন্টের পরের ধাপে বা ফাইনালে যদি কোনোভাবে এই দুই দল আবার মুখোমুখি হয়, তখন মাঠের সমীকরণ কী দাঁড়াবে, সেটা এখনো কিছুটা ধোঁয়াশাতেই রয়ে গেছে।
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও তাদের দিক থেকে অবস্থান বেশ পরিষ্কার করে দিয়েছে। ন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশন, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া একটা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আপাতত মাঠে গড়াচ্ছে না। সোজা কথায়, কোনো ভারতীয় দল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে যাবে না, আর কোনো পাকিস্তানি দলও শুধু দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ খেলতে ভারতে আসবে না।
তবে আইসিসি ইভেন্ট বা এশিয়া কাপের মতো বহুজাতিক আসরের ক্ষেত্রে ভারতের নিয়মটা সম্পূর্ণ আলাদা। এ ধরনের বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে ভারত পুরোপুরি সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছে। ভারতের এই নীতির পেছনের মূল কারণ হলো তাদের ভবিষ্যৎ স্পোর্টস ক্যালেন্ডার। তারা চাইছে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস আর ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের মতো মেগা ইভেন্টগুলো নিজেদের দেশে আয়োজন করতে। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের একটা আদর্শ আয়োজক হিসেবে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নিয়মকানুন মেনেই ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই নিয়মের ফলে বহুজাতিক কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের ভারতে আসতে কোনো আইনি বাধা থাকছে না। আন্তর্জাতিক স্পোর্টস হাব হওয়ার লক্ষ্যে ভারত এখন বিদেশি ক্রীড়াবিদ, টেকনিক্যাল স্টাফ আর অফিসিয়ালদের ভিসা প্রক্রিয়াও আগের চেয়ে অনেক সহজ করে দিচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্পোর্টস অফিসিয়ালদের মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকলেও, মেগা ইভেন্টগুলোতে ক্রিকেট রোমাঞ্চের কোনো ঘাটতি হচ্ছে না।