দলে সমন্বয় বাড়াতে ফর্মুলা খুঁজছে তৃণমূল

0

রাজীব ঘোষ:- তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে আদি এবং নব এই বিবাদ ক্রমশই বেড়ে চলেছে। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানে বাংলার যুব শক্তি কর্মসূচি তৈরি হওয়ার পরে সেই বিবাদ আরো বাড়তে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। দলের এই পরিস্থিতিতে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। গোষ্ঠী এবং ক্ষমতার সব কেন্দ্রগুলোকে একসূত্রে বাঁধতে চাইছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্য নিয়ে উত্তরবঙ্গে দলের জেলা কমিটি নতুন করে সাজানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার থেকে প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে বিজেপির সাংসদ হয়েছেন। নেতৃত্ব সমস্ত গোষ্ঠীকে নিয়ে আলোচনা করে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছেন। দক্ষিণবঙ্গেও তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা মাথায় রেখে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নির্বাচন কৌঁসুলি প্রশান্ত কিশোর দলের এক মন্ত্রী এবং দাপুটে নেতার সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ ওই মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন তিনি তার নিজের অবস্থানে অনড়। করোনা আবহের মধ্যে ও দক্ষিণ 24 পরগনায় এক তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যুব তৃনমূলের দিকে। এই প্রসঙ্গে জেলার তৃণমূলের এক নেতার কথায়, অধিকাংশ জায়গাতেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একেবারে বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে। দলীয় বিধায়কদের নিজেদের মধ্যেও এই বিভাজনের কারণে সম্পর্ক অনেকটাই খারাপ। দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলের এক নেতার কথায়, দলের মধ্যে শুধু দায়িত্ব বদল করলে হবে না। তাতে পারস্পরিক দূরত্ব বেড়ে যাবে। ভোটের সংগঠনে সকলকে নিয়ে এগোতে না পারলে দলের পক্ষে সেটা ভালো হবে না। ফলে দলের গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সমন্বয় খুবই জরুরী। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলায় দলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তৃণমূলের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক পরিস্থিতিকে মজবুত করার যে চেষ্টা সেটা ব্যাহত হচ্ছে। এক নেতার কথায়, দলের ভিতরে এখন যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে, ভোট এসে গেলে সেগুলো আর থাকবে না। কারণ তখন সরকার গঠন টাই মুখ্য উদ্দেশ্য। দল সরকারে ক্ষমতায় না থাকলে গোষ্ঠী ও থাকবে না। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি ইতিমধ্যেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে রাজ্যের নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করে দিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে তৃণমূল বিজেপির লড়াই ক্রমশ অন্যমাত্রা নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে সাংগঠনিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, দলের অন্দরে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের সংগঠন কে মজবুত করতে সমন্বয় বাড়ানো এখনই জরুরি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।