পরিযায়ীরা ফিরতে শুরু করেছেন কাজের রাজ‍্যে

0

রাজীব ঘোষঃ– করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফেরার জন্য মরিয়া হয়েছিলেন। সেই সময় বহু পরিযায়ী শ্রমিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে না পেরে পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য চেষ্টা করেন। এবার তারা ফের নিজের রাজ্য থেকে কর্মক্ষেত্রে ফেরার চেষ্টা করছেন। রেল কর্তাদের পক্ষ থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে।

রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ভি কে যাদব জানান, বিহার, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের মত যে রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা বেশি সেইখান থেকে ছাড়া বিশেষ ট্রেন গুলির ট্রেন্ড অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যেটা দেশের অর্থনৈতিক কাজকর্ম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েকটি ট্রেন যেগুলো উল্টো পথে উত্তর প্রদেশ থেকে মুম্বাই, বিহার থেকে মুম্বাই, উত্তর প্রদেশ থেকে গুজরাট বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাট গামী ট্রেন গুলিতে ক্রমশ যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে চাঙ্গা হচ্ছে এটা তার ইঙ্গিত। আমরা রাজ্য সরকার গুলির সঙ্গে কথা বলছি এবং আগামী দিনে যাত্রী সংখ্যার ভিত্তিতে যদি আরো প্রয়োজন হয় বিশেষ ট্রেনের ঘোষণা করব।

রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরিযায়ী শ্রমিকরা যে রাজ্যগুলিতে সবথেকে বেশি সংখ্যক ফিরেছিলেন, গত ২৬ জুন থেকে ৩০ শে জুন পর্যন্ত সেখান থেকে ছাড়া ট্রেন গুলির আসন ১০০%-র বেশি ভর্তি। বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুম্বাই, আমেদাবাদ এবং বেঙ্গালুরু গামী ট্রেন গুলিতে একটি আসন ফাঁকা পড়ে নেই। গোরখপুর বান্দ্রা এক্সপ্রেস সহ উত্তর প্রদেশ থেকে ছাড়া ট্রেনে আগামীকাল পর্যন্ত আসন ভর্তির হার ১২১.৬ শতাংশ। বিহার থেকে মুম্বাই, দিল্লি এবং আমেদাবাদ গামী অধিকাংশ ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা ১০০ শতাংশের বেশি।

পশ্চিমবঙ্গের ছবিটাও এক। হাওড়া থেকে দিল্লী, আমেদাবাদ, যোধপুর এবং সেকেন্দ্রাবাদ গামী ট্রেন গুলির সব আসন ভর্তি রয়েছে। দিল্লি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৫ জোড়া বিশেষ রাজধানী এক্সপ্রেস চালাচ্ছে রেল। একই সঙ্গে ১০০ জোড়া দূরপাল্লার ট্রেন চালানো হচ্ছে। যে ট্রেন গুলি আনলক এর প্রথম দিন থেকে চলাচল শুরু করেছে। জানা গিয়েছে ওই ট্রেন গুলিতে করেই শ্রমিকরা বেশি নিজেদের কর্মক্ষেত্রের রাজ্যে ফিরছেন।