জীবন ২১ এর লড়াই কেউ “গৃহবন্দি” কেউ “ফ্রেমবন্দি “কেউ বা “কফিনবন্দি”

0

অমিত সরকারঃ আমরা শুধু দূরে চলছিলাম এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। শহর যেন হাঁ করে কেবল গ্রাস করে চলছিল গ্রাম-গ্রামান্তর কে। সভ্যতা এগিয়ে চলছিল হুসেন বোল্ড এর মত। আমাদের ভাবনা চিন্তা কখনও ফাইভ-জি থেকে থেকে টেন জি চলে গিয়েছিল। আমরা সহবত ভুলে গিয়েছিলাম। আমরা প্রিয় বন্ধুকে ভুলে আগে থেকেই আইসোলেট শিখে গিয়েছিলাম। এখন যে কোয়ারেন্টাইন শব্দটা আমরা শুনছি তা আমরা অনেকদিন আগেই হয়ে গিয়েছি।

যদি ভাবেন কেন? তাহলে নিজের পরিবার তন্ত্র ও নিজের মনের কাছে একবার প্রশ্ন করুন? বিষয়টিকে সহজভাবে ভাবলে দেখা যায় আমরা নিজেদের কে চিনতে ভুলে গিয়েছিলাম।

21 দিন জীবনের হয়তো অনেক কিছু আপনার কাছ থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু বিনিময়ে দিয়ে যাবে অনেক কিছু। ইমোজি ভিডিও কলের মাধ্যমে আপনার আবেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তা আপনি এবার স্পর্শ অনুভব করতে পারবেন। হয়তো বাধ্যতামূলকভাবে আপনি গৃহবন্দি। হয়েছেন কিন্তু ইতিহাস যেখানে কথা বলে সেখানে বর্তমান নির্বাক হয়ে যায়। ভবিষ্যৎ আবার কথা বলবে, ভবিষ্যৎ আবার আপনাকে টেনে তুলে নিয়ে যাবে সময়ের অমোঘ টানে। কিন্তু দিয়ে যাবে সেই 21 দিনের এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

যে খাবারগুলো আপনার টেবিলে পড়ে থাকত ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতো আপনার ফিরে আসার, টেবিলের কোনাগুলো কানায় কানায় ভর্তি, হয়তো আমরা ভুলে গিয়েছিলাম সেই রামায়ণ মহাভারতের পঞ্চপান্ডব এর কাহিনী। আমরা মশগুল হয়ে ছিলাম হলিউডের ভাইরাস ফিল্মের দুনিয়ায়।

ফ্যাশন থেকে আরম্ভ করে খাদ্য জগতের এমন রেসিপি ভুলে গিয়েছিলাম মুড়ি, লঙ্কা চানাচুর এর স্বাদ। আপনি আমি দৌড়ঝাপের এই জীবনে জানালার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে আকাশ দেখার মতো সময় খুঁজতাম। এখন সময় এসে ধরা দিয়েছে আপনার হাতের কাছে।

এর মধ্যেই অপর একটি বড় শিক্ষা হয়তো দিয়ে গেল এ জীবন এর 21 দিন। ছোট কে আমরা তুচ্ছ মনে করি, ক্ষুদ্র কে তাচ্ছিল্য করি। আমাদের কিছু মানুষের ইগো আত্মাভিমান অহংকার বোধ এক নিমেষে হার মেনে গেল অদেখা অচেনা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক ভাইরাসের কাছে।

 কিছু মানুষকে করল ফ্রেমবন্দি, বাকি সবাইকে করে দিলো গৃহবন্দী, বহু মানুষকে করল কফিনবন্দি।