ফুটপাতের আলোয় পড়াশুনা করে মাধ্যমিকে ৬৮ শতাংশ নম্বর, একটি ফ্ল্যাট উপহার পেল দিনমজুর কন্যা ভারতী

0

সমাচার ডেস্কঃ- মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে তখন স্বপ্নকে পূরণ করতে সে অনেক রকম ভাবে সংগ্রাম করে। ঠিক সেরকমভাবেই সংগ্রাম করেছিল ভারতী। দিনমজুর বাবার মেয়ে সে। মাথার ওপর তার কোন ছাদ ছিল না। ফুটপাত ই ছিলো‌ তার ঠিকানা।মাধ্যমিক পাস করাটা তার কাছে ছিল রীতিমতো একটি কঠিন‌ব্যাপার।

ইচ্ছা আর অধ্যাবসায় থাকলে মানুষ কিনা করতে পারে! যেকোনো অসম্ভবই সম্ভব করা যায় প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে।ফুটপাতের আলোয় পড়াশোনা করেই ভারতী খান্ডেরকর ৬৮% নম্বর পেয়েছে মাধ্যমিকে। তার এই দারুন রেজাল্টের জন্য সে উপহার হিসেবে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছে।দিনরাত গাড়ির কোলাহলের মধ্যে পড়াটা কি চারটিখানি ব্যাপার!!! তার এই অসাধারণ রেজাল্টের জন্য ইন্দোরের পুরো কমিশনার তার জন্য ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশান্ত দিঘে ভারতীর জন্য একটি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেন। ফ্লাটের পাশাপাশি ভারতীর ভবিষ্যতে পড়াশোনা ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয় তার জন্য তার পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেবেন ইন্দোর পুরনিগম।ইতিমধ্যেই তারা ভারতের একাদশ শ্রেণির জন্য পড়ার যাবতীয় জিনিস কিনে দিয়েছেন।

ভারতীর দিনমজুর বাবা দশরথ জানিয়েছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই দিনমজুরের কাজ করেন। আর ভারতী দিনের বেলায় ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করত আর রান্না করতো। তারপর সারারাত জেগে ফুটপাতের আলোয় সে পড়াশোনা করত। তিনি ও তার স্ত্রী পালা করে মেয়ের পাশে রাত জেগে থাকতেন। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর পুরো নিগমের শিবাজী মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতেই মা বাবা ও ভাই বোনের সাথে থাকতো ভারতী। তার এই সাফল্যে সকলেই খুব খুশি হয়েছে। আমরাও তাকে অভিনন্দন জানাই।