যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ , পুলিশের বুলেটে চোখ হারালেন মহিলা সাংবাদিক

0

সমাচার ডেস্কঃ- যুক্তরাষ্ট্র জ্বলছে বিক্ষোভের আগুনে , শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় রাস্তায় জলছে বিক্ষোভের আগুন । সেই ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে চোখ হারিয়েছেন এক ফটোসাংবাদিক।

লিন্ডা টিরাদো নামে ওই নারী ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক। তিনি মিনেপোলিসে চলা বিক্ষোভে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি আর একচোখে দেখতে পারবেন না। তবুও মনবল হারাননি ওই সাংবাদিক। 

অস্ত্রোপচার করে তার চোখ থেকে গুলি বের করা হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই চোখে তিনি আর দেখতে পাবেন না। তবে এক চোখের জ্যোতি হারালেও ভেঙে পড়েননি টিরাদো।

‘এটা আমার ফটোগ্রাফি চোখ না। তাই ক্যারিয়ারও শেষ হচ্ছে না। আমি এখনো ফুল ও সূর্য ডোবা দেখতে পাই’-যোগ করেন নারী সাংবাদিক।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কয়েক দিন ধরেই আমেরিকায় যা চলছে। বিক্ষোভকারী হোয়াইট হাউজের সামনে জড়ো হন। তারা পাথর ছুঁড়তে থাকেন ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখনই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ট্রাম্পকে বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিক্রেট সার্ভিস।বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসও ছোঁড়ে পুলিশ।  আমেরিকা নিজের দেশ স্বাধীন করেছিল বহুদিন আগে।

  একসময় কৃষ্ণাঙ্গ শ্বেতাঙ্গ লড়াই ঐতিহাসিক সব আন্দোলনের সাক্ষী রয়েছে দেশটির বিভিন্ন কোনায়।  কিন্তু আবার হঠাৎ করে বর্তমান পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে আমেরিকার রাজনীতিকে ফুটছে কৃষ্ণাঙ্গরা

হোয়াইট হাউসের বাইরে জড়ো হওয়া প্রতিবাদীরা সরকারি সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের ব্যঙ্গ করে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।

 পরিস্থিতি সামলাতে রবার বুলেট ছুড়ে, ব্যাটন চালিয়ে ভিড় হালকা করার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু কোনোমতে বিক্ষোভকে সামাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে ওঠেনি বারবার করে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে এবং তা অগ্নিগর্ভের রূপ নিয়েছে স্পেস এক্স রকেট উৎক্ষেপণ নিয়ে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে সারাদিন ব্যস্ত থাকার পরে সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে পৌছন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করছেন একদিকে করো না আর ভয়াবহতা অন্যদিকে এই আন্দোলনে সুদুরপ্রসারী প্রভাব যে আগামী নির্বাচনে পড়বে তা বলাই বাহুল্য প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ঘটনার সূত্রপাত সোমবার জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত আমেরিকা, জনতার ঢলে শিকেয় করোনা-বিধি।

সোমবার মিনিয়াপোলিসে নাগাড়ে ৮ মিনিট হাঁটু দিয়ে গলা টিপে রেখে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় ফ্লয়েডকে। সেই দিনই ঘটনার প্রতিবাদে ওই শহরে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান কৃষ্ণাঙ্গরা।