প্রশান্ত কিশোরের রেসিপি? নাকি চাণক্য মুকুলের বিধ্বংসী চাল? এসিড টেস্ট ৩ বিধানসভা উপনির্বাচন! নজরে কালিয়াগঞ্জ

0

সমাচার ডেস্ক:কংগ্রেস বিধায়ক প্রমথনাথ রায়ের মৃত্যুতে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসন এখন শূন্য। বিজেপির দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা কেন্দ্র খড়গপুর সদর ও করিমপুরে উপনির্বাচন করতে হবে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে বিরাট ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী। বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ছিল ৪৬,৬০২। এর ঠিক তিন বছর পর রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী কালিয়াগঞ্জ থেকে ৫৬,৭৬২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ১,১২,৮৬৮টি অর্থাৎ ৫২.৫৮ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থীর প্রাপ্য ভোট ছিল ৬৬,২৬৬। আর বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১২.৭ শতাংশ ভোট। ভোটের অঙ্কে ২৭,২৫২। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এই বিধানসভায় অন্যদের ছাপিয়ে যায়।

কালিয়াগঞ্জ এ বিজেপি প্রার্থী কমল চন্দ্র সরকার। তৃণমূলের প্রার্থী তপন দেব সিংহ। সিপিএম কংগ্রেসের জোট প্রার্থী ধৃত শ্রী রায়।

ভোট বড় বালাই। আর ভোটের মরশুম আসলেই যেন পরিযায়ী পাখির মত এক ঝাঁক তারকা সমাবেশ ঘটে ভোটকেন্দ্রগুলোতে। হ্যাঁ এটা ভোট সাহিত্যে এমন নতুন কোন বিষয় নয়। আর এই ভোট সাহিত্যে অপর একটি অধ্যায় হলো উপনির্বাচন। যে উপনির্বাচন তিনটি কেন্দ্রে হতে চলেছে। এই উপনির্বাচনকে ঘিরে চলছে টানটান উত্তেজনা। কোথাও বিজেপি তো কোথাও বা তৃণমূলের পাল্লা ভারী।

এবার প্রশ্ন হচ্ছে বিজেপি তৃণমূল যে মাঠে লড়াই করছে তা ছিল কংগ্রেসের মাঠ। হ্যাঁ ঠিকি ধরেছেন কালিয়াগঞ্জ এর বিধানসভা উপনির্বাচন যে কেন্দ্রে লড়াই হচ্ছে তা কংগ্রেসের গড় বললে ভুল হবে না। এবার উপ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক কন্যা ধীতশ্রী রায়। তার প্রচারে দেখা যাচ্ছে সিপিএম এর এক ঝাঁক রাজনৈতিক মুখ। হ্যা অবাক হবার কিছু নেই। আসলে জোট রাজনীতির এটাই শেষ কথা নয়। একদিকে আব্দুল মান্নান অপরদিকে এই সুজন চক্রবর্তী যখন এক মঞ্চে একই সুরে কথা বলছেন তখন বুঝে নিতেই হবে জোর লড়াইয়ে নেমেছেন তারা।

কিন্তু তাদের মুখোমুখি কঠোর প্রতিপক্ষ বিজেপি ও তৃণমূল। হ্যাঁ এবার তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন তপন চন্দ্র দেব। তৃণমূল এখানে লোকসভা ভোটে নিজের রায়গঞ্জ সিটে জয়ের মুখ দেখতে পারেনি। দেবশ্রী রায় তার নিজস্ব করিশ্মায় এখানে লোকসভা সিট ছিনিয়ে এনেছে। তার মধ্যে কালিয়াগঞ্জ বেশ কিছু ক্ষেত্রে সর্বাধিক বিজেপিকে লিড দিয়েছে। আর সেই মাঠেই এবার তৃণমূলের সাথে লড়াই তাদের। এবার আসা যাক বিজেপি প্রার্থীর কথায়। তিনি অনেকেই বলছেন আরএসএস ঘারানা থেকে উঠে আসা এমন এক কঠোর পরিশ্রমের মানুষ যিনি নিজের দক্ষতায় সংগঠনকে ধরে রেখেছেন অজান্তের গ্রামগুলির কোনায় কোনায়।

হ্যাঁ এবার প্রশ্ন হচ্ছে যে এই সিটের লড়াইয়ের জন্য বিজেপি প্রথম থেকেই মুকুল রায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় লকেট চ্যাটার্জি বাবুল সুপ্রিয় এর মত হেভিওয়েট নেতাদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। লড়াইয়ের ময়দানে অন্যদিকে তৃণমূল ও তার দিদিকে বল কর্মসূচি নিয়ে পৌঁছে গেছেন ঘরের দুয়ারে। এমনকি প্রশান্ত কিশোর একটি মেয়ে সুচারু পরিকল্পনা চলছে দিনের পর দিন ধরে। এবার 25 শে নভেম্বর ভোট বাক্সে কতটা প্রতিফলন পড়বে তাদের প্রচারের তাদের উন্নয়নের তাদের ভুলত্রুটির। তা জানা যাবে 28 শে নভেম্বর।আপা তত সেই দিকেই তাকিয়ে আপামর কালিয়াগঞ্জ বাসি।