মোদীর বৈঠক দুই পর্বে, কী স্ট্র‍্যাটেজি

0

রাজীব ঘোষ:- ১৬ এবং ১৭ জুন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লকডাউন এর পর আনলক পর্বে কিভাবে দ্রুত এবং সুরক্ষিত উপায়ে এগোনো যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করবেন মোদি। তবে এবার অতীতের লকডাউন পর্বের মতো সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দের নিয়ে এক সঙ্গে বৈঠক করছেন না প্রধানমন্ত্রী।

 

মঙ্গলবার ২১ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ স্থানীয় আমলাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাকিদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বুধবার। রাজ্যগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করার পিছনে একটি হিসাব রয়েছে। করোনা সংক্রমণ যে সমস্ত রাজ্যে খুব কম অর্থাৎ ৫ শতাংশের আশে-পাশে সেই সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

আর যে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের হার এবং পরিযায়ী শ্রমিকরা ফেরার পরে সংকটের মধ্যে রয়েছে, তাদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে মঙ্গলবার ২১ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি।

 

উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি ছাড়াও পাঞ্জাব, কেরল, উত্তরাখন্ড এবং হিমাচল প্রদেশের মত কম করোনা সংক্রমণ রয়েছে যে সমস্ত রাজ্যে সেগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর মধ্যে অসমে সংক্রমনের হার বেশি। অসমে ৩৭০০ র বেশি, পাঞ্জাবে ৩০০০ র বেশি এবং কেরলে ২৪০০ র বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে। এই ২১ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারের মধ্যে এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৫০০ । মৃত্যু হয়েছে ১৩০ এর একটু বেশি।

 

উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর মধ্যে অসম কে বাদ দিলে এই মুহূর্তে সব রাজ্য মিলিয়ে অ্যাক্টিভ করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯৫৯ অসমের পরে ত্রিপুরায় আক্রান্ত হয়েছে ১০০০ এর আশেপাশে। বুধবারে যে সমস্ত রাজ্যগুলির এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করবেন, সেখানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

 

মহারাষ্ট্র, দিল্লি, তামিলনাড়ু, গুজরাট সহ একাধিক রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে এই তালিকায়। এই রাজ্যগুলোতে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশের মোট ৬৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে এই রাজ্যগুলিতে। মোট ২.১০ লাখ রোগী এই রাজ্যগুলোতে রয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে এই রাজ্য গুলো।

 

একদিকে এই রাজ্যগুলোতে করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি, অন্যদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরার ফলে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার, দুই পর্বে দেশের সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে কিভাবে দেশে সুরক্ষিত ভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হবে। দুই পর্বে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বৈঠকে দুই ধরনের স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।