স্টাফ রিপোর্টারঃ জায়গায় জায়গায় হচ্ছে ভোট। এই ভোটের ডিউটি দিচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক , কেন্দ্রীয় সেনা ও হেল্থ ডিপার্টমেন্ট থেকে স্বাস্থ্যকর্মী । কিন্তু এখন হেল্থ ডিপার্টমেন্ট এই ডিউটি নাকোচ করছেন । তারা বলছেন

ভোটের ডিউটি থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অব্যাহতি দেওয়া না হলে, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগের পরিষেবা ভেঙে পড়বে। কারণ এইসব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট 24 ঘণ্টা রোগ নির্ণয়ের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত।10 এপ্রিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে 5 এপ্রিল রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয়কুমার চক্রবর্তীকেও এই চিঠি পাঠিয়েছে এই সংগঠন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের এই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সমিত মণ্ডল এই চিঠিতে জানিয়েছেন, ভোটের ডিউটির জন্য এমন অনেক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে নেওয়া হয়েছে, যাঁরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের এমারজেন্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। ব্লাডব্যাঙ্ক, ICCU, সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি, X-RAY, ECG, CT, MRI, ডায়ালিসিস-এর মতো 24 ঘণ্টার পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এই সব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। এর ফলে বহু রোগী এবং তাঁদের পরিজনরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমারজেন্সি পরিষেবা ভেঙে পড়তে চলেছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর, ESI এবং KMC-র বিভিন্ন হাসপাতালে এই সব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডিউটি করেন। হাসপাতালের এমারজেন্সি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে, ভোটের ডিউটি থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

এই চিঠির মধ্যে আর্জি ছিলো , লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালে যাঁরা রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, সেই সব মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রতিটি হাসপাতাল, বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতাল যেমন, BPHC (ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার‌) এবং গ্রামীণ হাসপাতালের পাশাপাশি মহকুমা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্লাডব্যাঙ্কে যেখানে 6 জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন, সেখান থেকে 5 জনকে তুলে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে যেখানে এক থেকে দুই জন করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট X-RAY, ECG, ল্যাবরেটরির জন্য থাকেন, তাঁদের সবাইকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই পরিষেবা পাচ্ছেন না।”

“মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের তুলে নেওয়ার ফলে রোগ নির্ণয়ের সিস্টেমটাই বন্ধ হয়ে গেছে। যে সব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমারজেন্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। ব্লাডব্যাঙ্ক, ECG, X-RAY, MRI, ডায়ালিসিস, CCU-তে ডিউটি করেন, অবিলম্বে তাঁদের যদি ভোটের ডিউটি থেকে মুক্তি দেওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ পরিষেবাগুলি পাবেন।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এর ফলে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম যেগুলি আছে, বেশি টাকা খরচ করে সাধারণ মানুষ, গরিব মানুষকে যেতে হবে না, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না।”এই ধরনের সমস্যা কোন স্তরের হাসপাতালে সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে?

আরো জানা য়ায় জেলাস্তরে যেগুলি রয়েছে যেমন, বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। সেখানে 19 জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন। সেখান থেকে 15 জনকে তোলা হয়েছে। দক্ষিণ 24 পরগনা, কোচবিহার, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বিশেষ করে গ্রামীণ হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই পরিষেবাটাই পাচ্ছেন না।”


সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল ব্লাডব্যাঙ্ক। শুধুমাত্র ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে বিশুদ্ধ রক্ত দেওয়ার বিষয়টি নয়। মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা যদি না থাকেন, তাহলে রক্তদান শিবির করতে পারবেন না। রক্তদান শিবির করা সম্ভব না হলে, ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত দিতে পারবে না। এ কথা জানিয়ে সুমিতবাবু বলেন, “24 ঘণ্টার পরিষেবা ECG। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট না থাকার ফলে হৃদরোগ বিভাগের রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভোটের কারণে নানা অশান্তি হচ্ছে। অর্থোপেডিক বিভাগে যদি X-RAY না হয় তাহলে X-RAY প্লেট না দেখে কী ভাবে চিকিৎসা শুরু হবে?

চিঠিতে আমরা জানিয়েছি, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। তারজন্য যেন এমারজেন্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত এইসব মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে ভোটের কাজে না লাগানো হয়।”এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, “ভোটের কাজ এবং হাসপাতালের কাজ দুটোই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি, হাসপাতালের কাজের জন্য কর্মী রেখে বাকিদের ভোটের জন্য ছাড়তে পারেন। হাসপাতালের পরিষেবা কোনও ভাবেই বন্ধ করা যাবে না।”

সূত্রের খবর, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে যখন কর্মীদের তালিকা পাঠানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে, তখন উল্লেখ করে দেওয়া হয়নি কোন কর্মী কোন বিভাগের পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের এই সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তরের স্থানীয় প্রশাসন যদি কর্মীদের তালিকা পাঠানোর সময় এমারজেন্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের বিষয়টি উল্লেখ করে দিতেন, তাহলে হয়তো এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হত না।