“সৌদি আরবের মুসলমানদের মধ্যেও অনেকে উটমুত্র পান করেন। তাঁরাও বিশ্বাস করেন উট্মুত্র রোগ সারায়।” : তাসলিমা

0

সমাচার ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সবসময় সরব হয়ে থাকেন। সমাজের বিভিন্ন মূল্যবান ইস্যু নিয়ে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ থেকে তাড়িত। তার লেখনীর ক্ষুরধার সবসময় যেন সমাজকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। করোনা ভাইরাস নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি ধর্মের কথাও উল্লেখ করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তিনি বলেন- “হিন্দু মহাসভার ২০০ জন লোক গোমুত্র পার্টি করেছেন। সবাই গোমুত্র পান করেছেন এবং বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক গোমুত্র। একজন তো বললেন যে লোকই বিদেশ থেকে দেশের বিমান বন্দরে ল্যান্ড করবে , তার শরীরে গোমুত্র এবং গোবর ছিটিয়ে দিলেই ভাইরাস দূর হবে। ভিডিওতে দেখলাম একেকজন কী করে পান করছেন গোমুত্র। নিশ্চয়ই খুব আরামদায়ক নয় ওই জিনিস পান করা। এক লোক তো একহাতে নাক ধরে অন্য হাতে গোমুত্রের গ্লাস মুখে ঢাললেন। বিশ্বাস মানুষকে দিয়ে কী না করাতে পারে! বিশ্বাসের কারণে মানুষ মানুষকে নির্যাতন করছে, খুন করছে। আর এ তো কেবল গোমুত্র পান! কারো গোমুত্র পানে অন্যের কোনও ক্ষতি হচ্ছে না অবশ্য।

অন্যকে গোমুত্র পানের জন্য জোর না করলেই হলো। কেউ যদি নিজেকে অত্যাচার করে আনন্দ পায়, না হয় পাক। সৌদি আরবের মুসলমানদের মধ্যেও অনেকে উটমুত্র পান করেন। তাঁরাও বিশ্বাস করেন উট্মুত্র রোগ সারায়। সৌদি সরকার কয়েক বছর আগে নাকি উট্মুত্র বিক্রির দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। মার্স ভাইরাস যে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়েছিল এক সময়, ওই ভাইরাস কিন্তু বাদূড় থেকে উটে এসেছিল, উট থেকে মানুষে। কে জানে, উট্মুত্রেই ওই ভাইরাস ছিল কিনা, উটের দুধেও অবশ্য থাকতে পারে। ” বাদুর প্রসঙ্গে তিনি এরপর মন্তব্য করতে গিয়ে কিছুটা রসিকতার সুরে বলেন-

“বাদুড় থেকে সার্স , মার্স, নিপা,হেন্ড্রা, হালের কোভিড১৯ — কত কিছু এল। সোজা মানুষের শরীরে আসে না, ঘোড়া,উট, সিভেট, শুকর ইত্যাদি হয়ে আসে। এই বাদুড়ের ভাইরাসই মনে হয় একদিন মানুষ প্রজাতিকে বিলুপ্ত করবে। বাদুড়গুলো কত হাজারো ভাইরাস শরীরে নিয়ে দিব্যি সুস্থ বেঁচে থাকে। এমন চমৎকার সহাবস্থান কী করে সম্ভব! কিছু বিজ্ঞানী বলেন, বাদুড়ই একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যে ওড়ে। সম্ভবত বিবর্তন বাদুড়কে সক্ষম করেছে ভয়াবহ সব ভাইরাস শরীরে ধারণ করবে কিন্তু অসুস্থ হবে না।

” মানুষের জীবন দর্শনের কথাও তিনি তুলে ধরেন তাঁর লেখনীতে-“মানুষের জীবন যে কী রকম নড়বড়ে, ভঙ্গুর, তা চোখ কান খুলে দেখা হলো এবার! একটা ছোট্ট বাদুড়ের শরীর থেকে একটা ছোট্ট ভাইরাস নেমে এসে সাত বিলিয়ন মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিতে পারে। আমরা কি ইকো সিস্টেমের কথা ভাববো, নাকি সব কটা বাদুড়কে মানুষ প্রজাতির স্বার্থে মেরে ফেলবো? শুধু কি বাদুড়? মশারই বা কী দরকার পৃথিবীতে বেঁচে থাকার? মানুষকে কামড়, রোগ, আর মৃত্যু দেওয়া ছাড়া এর তো কোনও কাজ নেই।”