প্রেমের বিয়ে মানেই কি রোম্যান্টিক, অভিজ্ঞরা কী বলছেন?

ডেস্ক রিপোর্টারঃ বেশ কয়েকবছর প্রেম করার পর এবার বিয়ের পরিকল্পনা করছেন? ভাবছেন বিয়ের পর প্রচুর মজা করেবন, যা যা এতদিন লুকিয়ে করতে হত। প্রচুর রোমান্স করবেন, ঘুরবেন ফিরবেন। মজাই হবে অন্যরকম।


এমনটা যদি ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন। অভিজ্ঞরা কিন্তু একদমই এরকম বলছেন না। প্রেম করে বিয়ে মানেই রোম্যান্স ভরপুর একথা ভ্রান্তই ধরছেন তারা। ভারতের এই সময় পত্রিকা সম্প্রতি এ নিয়ে জরুরি কিছু কথা তুলে ধরেছে। আসুন জেনে রাখি বিষয়গুলো।

বাবা-মায়ের পছন্দ নয়

প্রেম করার পর বাড়িতে অশান্তি হয়নি এরকম মানুষের সংখ্যা খুব কম। বাবা মায়ের মধ্যে কারও না কারও অপছন্দ হয়েছে মেয়েকে। তবু ছেলে মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে তারা মেনে নেন সম্পর্ক, কিন্তু খিটিমিটি চলতেই থাকে। সে প্রসঙ্গে পরেও খোঁটা দিতে ভোলেন না তারা।

যুদ্ধ করে বিয়ে

অনেক লড়াই, অভিমান আর চোখের জল নিয়েও পছন্দের নারীকে বিয়ে করেন অনেকে। এমনকী পালিয়ে বিয়ে করতেও বাধ্য হন। এর ফলে মানসিক একটা প্রভাব তো পড়েই। সঙ্গে সামাজিকও। ফলে সেই বিয়েতে খুশি থাকে না, বলা যায় নিজের জেদ বজায় থাকে মাত্র।

বিয়ের পরই বরকে ভালো চিনেছি

বয়ফ্রেন্ড আর লিভিং পার্টনারের সঙ্গে স্বামীর ফারাক রয়েছে। যা বিয়ে না হলে টের পাওয়া যায় না। কারণ প্রেমের ক্ষেত্রে কোনও বাধ্য বাধকতা থাকে না। কিন্তু বিয়ের পর ফ্ল্যাট, গাড়ি বাড়ি সবই ভাবতে হয়। তাই শুরু হয় একে অপরের অচেনা পর্ব।

পরিবেশের সঙ্গে মানানো

বিয়ের আগে এসে দু একদিন থাকা আর বিয়ের পর ২৪ ঘন্টা একসঙ্গে থাকার ব্যাপারটা আলাদা। একটা মেয়েকে নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, সবকিছুই নতুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তাই দেখা যায় প্রেম করার সময়ের সঙ্গে এই সময়গুলো তুলনা চলে আসে প্রতিমুহূর্তে। আর শুরু হয় ফ্যাসাদ।

আলাদা হয়ে যাওয়া

বেশিরভাগ মেয়েই চান বিয়ের পর আলাদা সংসার পাততে। কিন্তু এতে ছেলের মায়েরা সায় দেয় না। তারা ভাবেন ছেলে বুঝি এবার হাতছাড়া হলো। শুরু আশান্তি। প্রতিদিন মা-বউয়ের ঝগড়ায় পাগল হয়ে যান স্বামী। তারপর অশান্তি ওঠে চরমে।

সমস্যা হলে বাড়িতে বলা যাবে না

তুমি নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছ, সুতরাং কোনও সমস্যা হলে দায় তোমার। এরকম ফ্যাক্ট প্রেমের বিয়েতে থাকেই। তাই যারা প্রেম করে বিয়ে করে সেসব মেয়ে সব সমস্যায় বাবা-মাকে অভিযোগ জানাতে পারে না।

স্বামীর চেয়ে স্ত্রীয়ের আয় বেশি হলে

প্রেম করার সময় এটা কোনও সমস্যা নয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই নিয়েই সমস্যা হয়। বাড়ির লোকের জন্যই ইগো সমস্যা তৈরি হয়। ছেলেকে এ প্রসঙ্গে বারবার খোঁটা দেওয়া হয়। ভালোবাসা তখন গাছে চড়ে যায়।

আত্মীয় এবং আত্মীয়তা

ধরা যাক আপনাদের প্রেম সম্পর্ক নিয়ে বাড়ির লোকের কোনও মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু আত্মীয়েরা বড্ড বেশি নাক গলান। ঠুকে কথা বলার অভ্যেস রয়েছে। ফলে কোনও গেটটুগেদারে দিয়ে অশান্তিতে পড়তে হল। পরবর্তীতে তাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।

তাই ভেবে চিন্তে পা বাড়তে হবে বিয়ের ক্ষেত্রে। কোনটা আপনার জন্য সুখের হবে কোনটা হবে না তা নির্ধারণ করে তবেই সম্পর্কে জড়ানো হবে আপনার জন্য উত্তম পথ।