ফেসবুকের ওয়ালে ভেসে উঠছে হারিয়ে যাওয়া বঙ্গসংস্কৃতি! ধুলোমাখা “বর্ণপরিচয়” খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ দেখা “আত্ম পরিচয়”

0

অমিত সরকার:- “ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল” কিন্তু না আজ কোন দ্বার খুলবে না। তার কারণ ত্রিপিটক হোক বা বাইবেল আপনার মনে তখন মৃত্যুর সাইরেন! আমার আপনার সবারই জানা রয়েছে বিন্দুসার যিনি “শত্রু হননকারী” নামে পরিচিত ছিলেন তার পক্ষেও সম্ভব না এই করোনা নামক শত্রু কে লাল কার্ড দেখিয়ে বিশ্ব থেকে বাইরে বের করা।

আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন গৃহবাসী এক আদিম মানব। আমি যদি ভারতীয় নেপোলিয়ান হতাম তাহলে হয়তো এক লহমায় জয় করে নিতাম সাম্রাজ্য। আবার পরক্ষনেই মস্তিষ্কের থ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে উত্তর আসে এক অনন্য প্রকৃতির। প্রকৃতির তাণ্ডবে সন্ত্রস্ত এক অসহায় সত্তা যেন শিরশির অনুভূতি সঞ্চারিত হয়ে উঠে মনের মধ্যে। হে রুদ্র তোমার দক্ষিণ পদক্ষেপে জগতের জন্ম ও মৃত্যু প্রতিফলিত হয়ে ওঠে। আবার হঠাৎ কখনো একলা মনে নিদ্রাহীন কোয়ারেন্টাইন চোখে মন বলে উঠে “যেতে যেতে একলা পথে নিভেছে মোর বাতি, ঝড় উঠেছে ওরে এবার ঝড়কে পেলেম সাথি।”

আজ আমরা সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি যুগ পার হয়ে যেন এক লকডাউন এর যুগে এসে দাঁড়িয়েছি। যেখানে বিশাখদত্তের “মুদ্রারাক্ষস” কোষ প্রাচীর ভেদ করে আলস্যের রাইবোজোমকে ছুঁতে পারেনি। তাইতো কখনো হাতরে বেরিয়েছি আলমারির কোনায় লুকিয়ে থাকা সেই এলবাম। ঝাড়তে গিয়ে হাজারো ধুলো বালির কণা স্মৃতির আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা ভালবাসা চোখের জলের ছবি গুলো হঠাৎ চোখের রেটিনায় এসে প্রবেশ করেছে। মুহূর্তের মধ্যেই ঝলসে উঠেছে স্মৃতির ব্যালকনি থেকে সেই ইতিহাসের নিষ্পাপ মুখ গুলো। সাথে সাথে মনে পড়ে গেছে হাবার্ট স্পেন্সারের অভিব্যক্তির সেই সংজ্ঞা” যে মন্থর গতিশীল প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক পরিবর্তন ও ক্রমিক রূপান্তরের মাধ্যমে…”।

কখনো বা অজান্তেই হাত চলে গেছে সেই বহু পুরনো ছোটবেলার “বর্ণপরিচয়” বইটির দিকে। স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ আজ সব বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। কখনোবা শল্কমোচন ঘটেছে মস্তিষ্কের অন্দরমহলে। চেনা হয়েও অপরিচিত লাগছে সেই পাতাগুলোর অপরূপ নকশা। বিদ্যাসাগর যেন সেই ভাঙ্গা মূর্তির মাঝখান থেকেই আত্ম পরিচয় দিচ্ছে।
তখনই যেন মন বলে উঠছে– “বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাইনা আর”

হঠাৎ যেন বেজে উঠল গ্রাহাম বেল এর সেই আবিষ্কার। এক রিংটোন দৌড়ে গিয়ে সেই মুঠো ফোনটা ধরে যখন কানে দিলাম কর্ণকুহরে প্রবেশ করল সেই ছেড়ে আসা কিছু মানুষের কণ্ঠস্বর। তাদের উৎপত্তিস্থল গঙ্গোত্রী হিমবাহ কিন্তু তারা মোহনায় এসে উপস্থিত। ভুল করে আবার প্রেমিকা ভাববেন না? তার ফোন নাম্বারটা কিন্তু চার্লস ব্যাবেজের কোন এক যন্ত্রাংশে জীবাশ্ম হয়ে পড়ে রয়েছে।

আসলে এই অলস সময় ধারা বেয়ে তাদেরও নেমে এসেছে এক ক্লান্তির তপোবন। এই সময় আর সেই ঋষি দুর্বাসা কে মনে করে তিক্ততা বাড়ানোর জন্য মন চায়নি। গল্প জুড়ে দিলাম বেশ। রামায়ণ-মহাভারত কখন যে মুহূর্তের মধ্যে বাহুবলির দেশে পৌঁছে গেল তা অনেকটা ওই অকৃপণ মনের দান বাক্সের মতো।

এভাবেই পরজীবী, মৃতজীবী, মিথোজীবী সালোকসংশ্লেষ ও শ্বসন প্রক্রিয়াকে চালিয়ে বেঁচে থাকার 21 দিন যেন ট্রপোস্ফিয়ার ভেদ করে অসীম মহাকাশে হরপ্পা মহেঞ্জোদারো ও বাইজেনটিয়াম সভ্যতার বন্দরে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে’। রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত উক্তি মনে পড়েছে ক্ষমা কর ভাই কাজের পথে আমিতো আর নাই।—–