দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে,চীন-পাকিস্তান ওর কথা পছন্দ করে,রাহুলকে নিশানা অমিতের

0

রাজীব ঘোষঃ-দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্য এই সংক্রমণে সর্বোচ্চ সংখ্যায় রয়েছে। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লিতে করোনা পরিস্থিতির ধীরে হলেও উন্নতি হচ্ছে। দিল্লির পুরসভা, সরকার, কেন্দ্রের সমন্বয় জরুরি ছিল। যা প্রয়োজনের কথা দিল্লি সরকার বলেছে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দিল্লিতে করোনার জেরে মৃত 450 জনের দেহ সৎকার করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

সহযোগিতা করেছে দিল্লি পুরসভা এবং সরকার। চিকিৎসকদের আলাদা টিম করে তোলা হয়েছে। দিনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সাড়ে পাঁচ লক্ষ সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী। অনেকে দিল্লি থেকে পালানোর কথা ভেবেছিলেন। সবাইকে নিয়ে একত্রে বৈঠক করায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। 30 জুনের মধ্যে সব ঘরের কনটেইনমেন্ট সার্ভের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বহুগুণ টেস্টিং এর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কাজে দিয়েছে টেলিফোনে এইমসের পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা। সমন্বয়ে আগে দিল্লি সরকারের ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতবে ভারত। উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবো।

দিল্লি এনসিআরে মিলিত সিদ্ধান্তে কাজ হবে। দিল্লিতে প্রতিটি মৃত্যু নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এখন দিল্লিতে প্রতিদিন 16000 টেস্টিং হচ্ছে। দিল্লিতে কোনো গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি। এলএনজেপি হাসপাতালে গিয়েছিলাম স্বাস্থ্য কর্মীদের মনোবল বাড়াতে।লকডাউন ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী, আমি সব মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। 11 হাজার কোটি টাকা রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে বাসে চলে যান শ্রমিকরা। যাদের ধৈর্যচ্যুতি হয়েছে তারা পায়ে হেঁটে চলে গিয়েছেন। সবাইকে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সবার রোজগারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রত্যেকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে, বলে জানান অমিত শাহ। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্য গুলোকে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 100 দিনের সময়সীমায় টাকা বাড়ানো হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নিজের এলাকায় থেকে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। এরপরেও কেউ যদি নিজের কাজের জায়গায় যেতে চান যেতেই পারেন। তাদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে। সুস্থতার হার 7 শতাংশ থেকে বেড়ে 57 শতাংশ হয়েছে।

এর পরেই রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিজেপির সভাপতির পদে যারা এসেছেন তারা কি কোনো পরিবার থেকে এসেছেন? কংগ্রেসে কি সেটা হয়? বিশ্বজুড়ে আর্থিক সংকট হলে ভারত বা বাদ যাবে কেন? কোভিড আটকাতে দেশ সক্ষম হয়েছে। প্রতি 10 লক্ষে ভারতে করোনায় মৃত্যু 11 জন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পরেই অমিত শাহ বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে বলেন, বিরোধী দলের নেতারা নিচু রাজনীতি করছেন। সংসদে চিন নিয়ে আমরা বিতর্কে তৈরি আছি।

বিরোধী দলের এক প্রাক্তন সভাপতি নিচু রাজনীতি করছেন। ওর কথা পাকিস্তান-চীন পছন্দ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ওর টুইটের হ্যাশট্যাগ দুই দেশে জনপ্রিয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নাম না করে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন অমিত শাহ। এদিন তিনি সরকারের কাজের পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দেন।