“কি ভাবে বাঁচব?” ;সামাজিক দূরত্ব মানে মনুষ্যত্ব হীনতা নয়!” ইতিহাস যেন পরিহাস না হয়”

0

অমিত সরকারঃ “দেশে জন্মেছি বলে দেশ আমার নয়। দেশকে নিজের তনুমন দিয়ে সৃষ্টি করেছি বলে দেশ আমার” রবীন্দ্রনাথ এই সূত্রটি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। হাট-বাজার কে আমরা মিলনস্থল বলে থাকি। মানুষ এখানে জ্ঞান বিনিময় প্রীতি বিনিময় করে। আর সেখানেই তার মিলন তীর্থ। কিন্তু সে মিলন তীর্থ আজ পরিবর্তিত হয়েছে সামাজিক দূরত্বে।

 আমরা অনেকেই নিজে বাঁচার তাগিদে গৃহবন্দী হয়ে আছি। এই ভাবনা হয়তো আমাদের পরিপূর্ণরূপে মাথার প্রত্যেকটা কলকব্জায় প্রতিস্থাপিত হয়ে আছে। নিন্দুকেরে কিন্তু আমরা কখনো ভাবি নি যদি সভ্যতার সমাজ বেঁচে না থাকে তাহলে আমরা বাঁচতে পারব না।

এক কালে মানুষ দিন দিন পল্লী কে ছেড়ে নগরে জুটেছে। নগরের প্রধান আকর্ষণ তার নিত্যনতুন চমক। নিত্য নতুন খবর, নিত্য নতুন শিক্ষা, নতুন আকর্ষণ কে উপেক্ষা করতে পারেনি যা বর্তমানেও পারেনা।

কিন্তু প্রাচীন ভারতবর্ষের গার্হস্থ্য আদর্শই হচ্ছে সব দেশের সর্বকালের পূর্ণবয়স্ক মানুষের আদর্শ। যার মধ্যে ভোগ ,আনন্দ ,সংযম স্থান পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ স্কুল যন্ত্রের কবল থেকে বিরত রেখেছিলেন নিজেকে এর জন্য তিনি ভুক্তভোগী হয়েছেন সমাজের সমস্ত সমস্ত নেটিজেনদের কাছে।।

 তার শিল্পের ছোঁয়া লেগে একের পর এক সাহিত্য সৃষ্টি মানুষের বেঁচে থাকার র সদ জুগিয়েছে। গৃহবন্দি মানুষ পেয়েছে আধ্যাত্বিক অগ্নিমান্দ্য সুযোগ। তাই এই গৃহবন্দী অবস্থা আমাদের কাছে মোটেই দুখকর নয়। আবার খুব সুখকর এমনটাও বলা যায়না।

 পাকশালার পাকে পাকে আমরা আজ বদ্ধ হয়েছি নিত্যনতুন খাবারে। কিন্তু সে খাবার থেকে মুখ ঘুরিয়ে আমরাও অভ্যস্ত হতে পারি অন্য ধরনের খাবারে। আসলে দিগ্বিজয়ী মানুষগুলো কোন সময়ে রাজকীয় ধরনে আরম্ভ করেননি, তারা হাতে রেখে দান করেননি, হাতে হাতে ফল চাননি, আসলে যার অধিক মূলধনের কারবার তার বিরাট ক্ষতি বিরাট লাভের জন্য কোন ত্বরা নেই।

তাই এই প্রশ্ন আমাদের মহামানবের সাগরতীরে বারবার ঘটছে।”কি ভাবে বাঁচব?” কিন্তু বাচার আগে মুক্তির পথ আমাদের খুঁজতে হবে। মহাযুদ্ধের মহাপ্রলয় এর সাক্ষী আমরা। ইতিহাস যে কোন সময় পরিহাসে পরিণত হয়েছে তা হয়তো আমরা তাকিয়ে থাকব। কিন্তু এই 21 দিনের গৃহবন্দী হয়তো পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়ে যাবে এক নতুন বাতাস, নতুন পৃথিবী, বেঁচে থাকার নতুন রসদ। এর মধ্যে থেকেই আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবো কিন্তু মানসিক দূরত্ব নয়। মনুষ্যত্ব আমাদের কথা বলবে কিন্তু কখনোই তা যেন অমানবিকতার “লক্ষণ রেখা” কে পার না করে।