মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত ঘূর্ণিঝড়! নবান্নে বলেন মমতা 

0

রাজীব ঘোষঃ- ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আমফান আছড়ে পড়তে চলেছে। আমফান মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন,অনেকে বলছেন আইলার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। কাল বাড়ি থেকে কেউ বের হবেন না। ঘূর্ণিঝড়ে কি হবে তা কেউ জানে না। এই পরিস্থিতিতে কেউ সমুদ্রে যাবেন না। দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মেদিনীপুরের একাংশ ঘূর্ণিঝড়ের যথেষ্ট প্রভাব পড়তে পারে। মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কাজ করছে। পুলিশ প্রশাসনের নিচু তলাতেও বার্তা পৌঁছেছে।

সাইক্লোন সেন্টারে যথেষ্ট সর্তকতা নেবেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ লক্ষ মানুষকে সরানো হয়েছে। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত এই ঘূর্ণিঝড়। উত্তর ২৪ পরগনায় ৫০ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ৪০ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০ হাজার মানুষকে সরানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। আমফান মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ, কাঁচা বাড়ি যাদের রয়েছে তারা ত্রাণশিবিরে থাকুন।

আফটার ইফেক্টস যা হবে সেগুলো পরে করা হবে। বিপদে পড়লে বাড়িতে যেরকম থাকেন ৩৬৫ দিন সেটা করা যাবে না। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষকে পর্যন্ত সরানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কোন পর্যায়ে হবে কেউ জানিনা। কত কিলোমিটার বেগে ঝড় বইবে তাও ঠিকমত বলা যাচ্ছে না। যতটুকু ইনফরমেশন পাচ্ছি তার উপর ভিত্তি করে কাজ চলছে।

এই সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার আসছেন। তাদের নিজেদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দেন, রেলওয়েকে বলার জন্য যাতে এই সময়ের মধ্যে রেলে করে কোনো পরিযায়ীদের যেন না পাঠানো হয়।

রাজ্যবাসী কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কন্ট্রোলরুম ফোন নম্বর হলো, ২২১৪৩৫২৬/১৯৯৫ এছাড়াও টোল ফ্রি নাম্বার ১০৭০ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী ডিএম এবং এসপি দের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন ।