সমাজের কুসংস্কার কে পাত্তা না দিয়ে ট্র্যাক্টর দিয়ে ক্ষেত চাষ করল দেশের মেয়ে মঞ্জু

0

সমাচার ডেস্কঃ ঝাড়খণ্ডের গুমলা একবিংশ শতাব্দীতে, মহিলারা তাদের প্রতিভা দেখিয়েছেন চাঁদের দূরত্ব অতিক্রম করে বিমান ওড়ানো, অগ্রগতির পতাকা ওড়ানোর মতো কঠোর পরিশ্রম করে। সেই সাথে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত একটি আদিবাসী সমাজের একজন স্বাবলম্বী কন্যা সামাজিক বয়কটের শিকার হতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি গুমলা জেলার, যেখানে একটি মেয়ে ট্র্যাক্টর দিয়ে ক্ষেত চাষ করার সময় জরিমানা করা হয়েছিল।গুমলার অনেক গ্রামে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে। এর অভাবে কুসংস্কারের কারণে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা মানুষকে হতবাক করে দেয়। সর্বশেষ ঘটনাটি সিসিই ব্লকের শিবনাথপুর পঞ্চায়েতের ডাহুতলি গ্রামের, যেখানে মেয়ে মঞ্জু ওরাওঁ তার স্বনির্ভর প্রবণতার ধাক্কা খেয়েছে। আসলে মঞ্জু ট্রাক্টর দিয়ে ক্ষেত চষে বেড়াতে গিয়ে কুসংস্কারে ধরা গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। গ্রামবাসীরা জানান, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা প্রথা অনুযায়ী নারীদের ঘর ঢেকে মাঠে লাঙল দেওয়া নিষেধ।

২২ বছর বয়সী মঞ্জু কুমারী, যিনি ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করছেন, তিনি একজন সফল কৃষক। পারিবারিক ৬ একর জমির পাশাপাশি তিনি তার নিষ্ঠা ও সাহসিকতার কারণে গ্রামবাসীর ১০ একর জমি ইজারা নিয়ে ধান, ভুট্টা, টমেটো, আলুসহ সবজির চাষ করছেন। শুধু তাই নয়, চাষের আয় দিয়ে তিনি ট্রাক্টর ও সেচ সংক্রান্ত উপকরণও কিনেছেন। একই সঙ্গে মঞ্জু কুমারীর মধ্যে এমন একটা আবেগ ও আবেগ আছে যে, তিনি নিজে ট্রাক্টর চালিয়ে কৃষিকাজ করে মানুষের মাঝে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

তবে তার গ্রামের লোকজন বলছেন, মঞ্জু এসব করে গ্রামে কোথাও মহামারী ও দুর্ভিক্ষ ডেকেছে। এর জেরে গ্রামের শতাধিক মহিলা ও পুরুষ মঞ্জু কুমারীর বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত করে এবং মঞ্জুর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে আবার ট্রাক্টর দিয়ে ক্ষেত না চালাতে নির্দেশ দেয়। তার বিরুদ্ধে জরিমানাও করা হয়েছে। পঞ্চায়েতে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক মহিলা গ্রামকে সুরক্ষিত করার কথা বলেন। সেই সঙ্গে পঞ্চায়েতের নির্দেশ না মানার জন্য মঞ্জু কুমারীকে সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।