বার বার প্রতিবাদ জানিয়েও বদলায়নি অভ্যাস । পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসনও । তাই জব্দ করতে প্রধান শিক্ষককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠিপেটা করল গ্রামের লোকজন ।

স্কুলে নিয়মিতভাবে আসেন না প্রধান শিক্ষক। আর যেদিন আসেন সেদিন আবার সময়ের আগে তালা দিয়ে চলে যান । অনেকদিন ধরেই প্রধান শিক্ষকের এই কাণ্ড দেখে আসছে গ্রামের লোকজন ৷ এবার তারা প্রধান শিক্ষককে শাস্তি দিল ৷ তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হল ৷

পুরুলিয়ার ঝালদার একটি প্রাথমিক স্কুলে গত সোমবার এই ঘটনা ঘটে ৷ প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঝালদা থানার পুলিশ। ঝালদা থানার ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্কুলে ঠিক সময়ে আসেন না । আর এলেও সময়ের আগেই স্কুল বন্ধ করে চলে যান । ঠিকমতো ক্লাস হয় না । মিড ডে মিল থেকেও না কি বঞ্চিত পডু়ায়ারা ।

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি । প্রধান শিক্ষকের এই অভ্যাসের জন্য আগেও একবার তাঁকে স্কুলে তালাবন্দী করে রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছিল গ্রামবাসীদের একাংশ । এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধও রেখেছিল গ্রামবাসীরা । পরে প্রশাসনিক আধিকারিকরা স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছিলেন । প্রধানশিক্ষক আশ্বাস দিয়েছিলেন, এবার থেকে তিনি সময়েই স্কুলে আসবেন ৷

এই ঘটনার কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রধান শিক্ষক ফের দেরি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের । এলাকার লোকজন জানালেন, এবারও প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার বলা হয়েছে ৷ সতর্ক করা হয়েছে ৷ অথচ তিনি কারও কথা কানে তোলেননি ৷ তাই এবারে বিদ্যুতের খুঁটিতে বাঁধা হয় তাঁকে ।

এদিকে প্রধান শিক্ষকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থানে আসে ঝালদা থানার পুলিশ । শিক্ষককে উদ্ধার করা হয় । অভিযোগের ভিত্তিতে নামচন্দ্র কুমার ও গুরুদাস পরামানিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

গতকাল তাদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয় । স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের স্কুলে দেরিতে আসার অভ্যেস আজকের নয় ৷ আগে নিজেরই এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন । সেখানেও না কি নানা কারণ দেখিয়ে তিনি স্কুলে দেরি করে আসতেন ৷ ঝালদার এই স্কুলে আসার আগে তাঁকে দু’বার বদলি হতে হয়েছে ৷