পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে পর আলু ও অন্যান্য শীতকালীন সবজি মধ্যবিত্তের পকেট এ ধরিয়েছে “দাবানল”!

0

ওয়েব ডেস্ক: কিছুদিন আগে পেঁয়াজের অগ্নিমূল্য যেমন মধ্যবিত্তের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল কিন্তু তার পরিবর্তে এখন সেই জায়গায় এসেছে আলু। যার নিত্যদিনের মানুষের খাবার এর এক নিত্যসঙ্গী।

জমিতে জল জমে চাষের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন লাগানো চারা গাছের গোড়া নরম, বৃষ্টির জলে আলগা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জানা গিয়েছে বিশেষত পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি জেলায় আলু চাষে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষি কৃষি বিভাগের আধিকারিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, “এই আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে চাষের প্রবল ক্ষতি হয়েছে। অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।” আরে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বাজারে এসে পড়েছে তার প্রতিফলন।

একই দৃশ্য দেখতে মিলছে বীরভূম জেলাতেও। অনেকেই লোন নিয়ে আলু চাষ করেন, কেউ কেউ আবার জমি অথবা গয়না বন্ধক রেখে মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে চাষাবাদ করেছন ৷ কিছু টাকা লাভের আশায়।

এমতবস্থায় লাভ তো অনেক দূরে অকাল চাষের খরচটুকু উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহে আছে। বৃষ্টিতে এমন ক্ষতি হওয়ায় চাষিদের মাথায় বাজ পড়েছে। তবে এবার আলুর দাম যে চড়চড়িয়ে বাড়বে তা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে।

শুধুমাত্র আলুচাষীরাই সংকটে নয়। বৃষ্টির জেরে অনান্য শীতকালীন ফসল ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাজর, টমেটো, ফুলকপি বাঁধাকপিসহ অনেক শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়ে ‌যাচ্ছে।‌ বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকদিন আগে অবধি পেঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতাদের সংকটে পড়তে হয়েছিল। তবে পেঁয়াজের দাম এখন কিছুটা আয়ত্তে এসেছে। এখন পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। এর ফলে রান্নাঘরে পেঁয়াজ ব্যবহারের অনেকটা দড়িতে টান দিয়েছিল গৃহিণীরা। রান্নাঘরে আলুর চাহিদা সব থেকে বেশি। তাই আলুর দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্ররা চিন্তায় পড়ে গেছে।তবে শুধু আলু নয় শীতকালীন সবজিতে ও যেন অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের মত আগুন লেগে রয়েছে।

শীতকালীন সবজি পালংশাক, ফুলকপি, বেগুন, গাজর, বিনস, মটরশুঁটি, বাঁধাকপি পেঁয়াজকলি, এবং আরো অন্যান্য সবজি ৪০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বাধিক ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে। কয়েকদিন আগে অবধি জ্যোতি কিংবা চন্দ্রমুখী আলুর দাম পঁচিশ থেকে সাতাশের মধ্যে ছিল ৷ এখন দাম বেড়ে ৩২ থেকে ৩৬ টাকা কেজি। এমতাবস্থায় সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের এতো শীতেও কালঘাম ছুটছে। আর এর থেকে রেহাই মিলবে কিভাবে তা সরকারের অবশ্যই দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।